বাণিজ্য-রাশিয়া প্রশ্নে জি-সেভেনে বিভক্তি ছড়ালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

বাণিজ্য-রাশিয়া প্রশ্নে জি-সেভেনে বিভক্তি ছড়ালেন ট্রাম্প


শিল্পোন্নত দেশগুলো সম্মেলন জি-সেভেনের প্রথম দিনেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও গ্রুপের অন্য নেতাদের সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগ মুহূর্তে ট্রাম্প এক অবাক দাবি করে বসেন। তিনি জি-সেভেনে আবারও রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান। খবর বিবিসির।

তবে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, কানাডায় সামিটে অংশগ্রহণকারী ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের ভাবনার সঙ্গে একমত নয়।

এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক করারোপ নিয়ে শুক্রবার এক ধরনের রেষারেষি দেখা গেছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্যিক বিষয়ে আমাদের অল্পই আলোচনা হয়েছে, তবে আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। তবে ম্যাক্রোঁ বলেছেন, আমার বিশ্বাস সব পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইচ্ছুক রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ফরাসি প্রেসিডেন্টের একজন সহযোগীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহে টেকনিক্যাল লেভেল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ১২ জুন সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠক সামনে রেখে দুইদিনের সম্মেলন থেকেই আগে চলে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

এদিকে ট্রাম্প বাণিজ্য করকে ‘অবৈধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে কানাডা। আর ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও ইরান বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান সত্যিকারের বিপদের কারণ।

তিনি বলেন, যেটা আমাকে বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলছে সেটি হচ্ছে নিয়মের ভেতর থেকেই আন্তর্জাতিক বিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে এটি করছে এ ধরনের নিয়মের প্রধান স্থপতি ও জামিনদাতা যুক্তরাষ্ট্রই এমনটা করছে।

রাশিয়া নিয়ে কী বলেছেন ট্রাম্প?

শুক্রবার জি-সেভেন সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আপনি জানেন, আপনি এটা পছন্দ করেন বা না করেন এবং এটা রাজনৈতিকভাবে ঠিক নাও হতে পারে- কিন্তু আমাদের বিশ্বটা চালাতে হবে এবং জি-সেভেন, যেটি আগে জি-এইট ছিল, তারা রাশিয়াকে বের করে দিয়েছে। তাদের উচিত রাশিয়াকে ফিরতে দেয়া।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্য প্রাথমিকভাবে সমর্থন জানান ইতালির নতুন প্রধানমন্ত্রী গিউসেপ্পে কন্তে। তিনি এক টুইট বার্তায় লিখেন, রাশিয়াকে ‘সবার স্বার্থেই’ পুনর্বহাল করতে হবে।

কিন্তু পরে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, ইউক্রেন নিয়ে ‘অগ্রগতি’ না হলে সব ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ এবং কন্তে এ বিষয়ে সম্মত হয়েছে যে রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। কানাডাও জানিয়েছে তারা ট্রাম্পের এ ধরনের প্রস্তাবের বিরোধী।

এদিকে রাশিয়া সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা জি-সেভেনের বাইরে ‘অন্য ফরম্যাটের’ প্রতি আগ্রহী।

বাণিজ্যকে কীভাবে দেখছে অন্য জি-সেভেন সদস্যরা?

স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর করারোপে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে পর্যন্ত ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়া ভয়টাকেও উসকে দেয়।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ওই করারোপকে ‘অবৈধ ও পুরোপুরি অনৈতিক’ বলে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা কর কমাতে কাজ করছে এবং ‘উভয় দেশের জন্য এটি যাতে ন্যায্য হয়’।