মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্ক আওয়ামী লীগ

আওয়ামীলীগ
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্ক আওয়ামী লীগ

অনলাইন ডেস্ক: আগামী মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে দেশের ৫টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। প্রথম দফায় খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৩১ মার্চ এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জুলাইয়ের মধ্যে আরো ৩টি সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো- রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট। দলীয় প্রতীক নিয়ে এসব সিটিতে এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নেবেন মেয়র প্রার্থীরা।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ আগে থেকেই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। গণসংযোগ করছেন। মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। সিটি এলাকায় পোস্টার-ফেস্টুন ও ব্যানার টাঙিয়ে নিজের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা জানান দিচ্ছেন। লবিং-তদবির করছেন দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে।

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলবে। কাজেই ৫ সিটি নির্বাচন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জের। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত এসব নির্বাচনে প্রায় সবকটিতেই বিএনপির প্রার্থীদের কাছে আ.লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হয়। এবার জয় হাতছাড়া করতে চায় না দলটি। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এসব সিটিতে নির্বাচনী জনসভা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি উপস্থিত জনতার কাছে নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিতে ওয়াদাও করিয়েছেন।

জানা গেছে, ৫ সিটিতে নির্বাচনে বিজয় এনে দিতে পারবেন- এমন মেয়র প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। এরই মধ্যে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সিলেট ও রাজশাহীতে ২ প্রার্থীকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। সিলেটে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান ও রাজশাহীতে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ইতোমধ্যে তারা নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু করেছেন।

এ ছাড়া গাজীপুরে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র এডভোকেট আজমত উল্লাহ খানের নাম বেশ জোরেসোরেই আলোচনা হচ্ছে। গত নির্বাচনে বিএনপির এম এ মান্নানের কাছে হেরে যান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা জানান, রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকায় এবারো আজমত উল্লাহ খানকে দলের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি ক্লিন ইমেজের অধিকারী। সাধারণ মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। সবমিলিয়ে দলের হাইকমান্ডের পছন্দ তাকেই। তফসিল ঘোষণা হলে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে মনোনয়ন দৌড়ে জোরালো আলোচনায় আছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের নাম। গাজীপুর সদর ও টঙ্গী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন তিনি। এবার বেশ আগে থেকেই মাঠে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন এই নেতা। হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছর মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় এবার জাহাঙ্গীরকে নিয়েও চিন্তা করা হচ্ছে। তরুণ হিসেবে তিনি বেশ আলোচনায় আছেন।

জানতে চাইলে এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান বলেন, আমি দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি। আমার বেশ অভিজ্ঞতা আছে। আমি দীর্ঘদিন টঙ্গী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনের পর থেকেই আমি মাঠে কাজ করছি। এখনো আছি। আমার বিশ^াস দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

আর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরের ১১ তারিখ আমি গণভবনে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাকে এবার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। দল আমাকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। আমিই মনোনয়ন পাব। তবে দলের একাধিক নেতা জানান, গাজীপুরে আজমত উল্লাহ খানকেই হাইকমান্ডের পছন্দ। সেদিক থেকে শেষ পর্যন্ত তিনিই মনোনয়ন পেতে পারেন।

বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় বেশ এগিয়ে আছেন কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। ২০০৮ সালে বরিশাল সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মজিবর রহমান সারোয়ারের কাছে মাত্র ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তিনি। তবে বরিশালের ইতিহাসে আ.লীগের পক্ষে তিনিই সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন। এবার মেয়র পদে বরিশালে তিনি বেশ প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালে জাহিদ ফারুক শামীমের অবস্থান ভালো হওয়ায় দল তাকেই মনোনয়ন দিতে পারে।

এদিকে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে সাদেক আবদুল্লাহ মেয়র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে এলেও সম্প্রতি বরিশালে অনুষ্ঠিত জনসভার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। নগরীতে তৎপরতা নেই তার অনুসারী নেতাকর্মীদেরও। জনসভার আগে প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাদেক আবদুল্লাহর সরব উপস্থিতি থাকলেও এখন সেটা নেই। স্থানীয়দের ধারণা- বরিশালে এসে প্রধানমন্ত্রী সাদেক আবদুল্লাহকে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলতে পারেন। যার জন্য তিনি এখন মাঠে নেই। সে ক্ষেত্রে জাহিদ ফারুক বেশ এগিয়ে আছেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের নাম আলোচনায় থাকলেও এ বছর প্রার্থী হবেন না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমি বর্তমানে সংসদ সদস্য আছি। মেয়র পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার নেই। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই আমরা কাজ করব।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এ সিটির সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি জোরালো আলোচনায় আছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একজন নেতা জানান, খুলনায় শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই। তাকে এবার মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

এদিকে আলোচনায় আছেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও খুলনার প্রথম মেয়র কাজী আমিনুল হক, খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম এবং মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট সরদার আনিসুর রহমান পপলু।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের তিন নেতা। এরা হলেন- সিলেট মহানগর সভাপতি এবং সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সাবেক ছাত্রনেতা আসাদ উদ্দিন আহমদ এবং শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। সবাই নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিতে তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সঙ্গে নিজের পক্ষে সাফাই আদায়ে কেন্দ্রের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ২০১৩ সালের নির্বাচনে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কাছে তিনি পরাজিত হন। আসন্ন নির্বাচনে আবারো মেয়র প্রার্থী হিসেবে লিটন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।