বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাস ও বোমা হামলায় পারদর্শী : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামীলীগ
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাস ও বোমা হামলায় পারদর্শী : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাস, বোমা ও গ্রেনেড হামলায় পারদর্শী। এছাড়া তারা ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতি, লুটপাট ও বিদেশে অর্থ পাচার করে। তারা মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। আওয়ামী লীগ দেশ গড়ে তোলে, উন্নয়ন করে, আর তারা ধ্বংস করে। গতকাল রবিবার বিকালে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পঁচাত্তরের পর যারাই ক্ষমতায় এসেছিল, কেউই দেশের উন্নয়ন করেনি। নিজেরা লুটপাট, চুরি ও দুর্নীতি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দেয়, যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের দিয়ে দেশের উন্নয়ন হবে না। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাই। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট দেবেন কি না হাত তুলে ওয়াদা করুন। তখন উপস্থিত জনতা হাত তুলে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। আমাদের অনেক নেতাকর্মী মারা গেছে, এমনকি চাঁদপুরেরও একজন মারা গেছেন। বারবার তারা আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে গেছি। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বল্প উন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মর্যাদা পেয়েছে। বিশ্ব দরবারে আমাদের মাথা উঁচু হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এতিমখানার জন্য টাকা এসেছে, বিদেশ থেকে টাকা দেওয়া হয়েছে এতিমের জন্য। একটা টাকাও এতিমের হাতে যায়নি। সেই টাকা সব লুটপাট, চুরি করে খেয়েছে। এখন এতিমের টাকা চুরির দায়ে সাজা ভোগ করছেন খালেদা জিয়া। তার জন্য নাকি আবার আন্দোলন করে। তিনি বলেন, কোরআন শরীফে আছে এতিমের হক কেড়ে নিও না। এতিমকে দাও। অথচ সেই অপকর্মটা করতেও তারা পিছ পা হয়নি। তিনি বলেন, জাতির পিতা যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন, তার হত্যার পর জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী-এমপি-উপদেষ্টা বানিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাঁদপুরে একটা মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ আমরা করে দিবো। কারণ আপনাদের সংসদ সদস্য নিজেই একজন ডাক্তার। উনি দাবি করেছেন, এটা করে দেবো। এছাড়া এই এলাকার হাইমচরে একটা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আমরা করে দেবো, যাতে লোকজনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। পর্যটনের ব্যবস্থা করে দেবো, কারণ এটা নৌ ভ্রমণের জন্য একটা সুন্দর জায়গা। পদ্মা-মেঘনার সঙ্গমস্থল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় এবং দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এটিই আওয়ামী লীগের আদর্শ। আমরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক তৈরি করে দিয়েছি। যেন কেউ বিদেশে গেলে ঘর-বাড়ি ও জমি বিক্রি করে যেতে না হয়। ওই ব্যাংক থেকেই ঋণ নিয়ে বিদেশে যেতে পারে। আমরা গত ১ বছরে বিদেশে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছি। একই সাথে দেশে দেড় কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক সম্পর্কে অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমামদেরকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, বাল্য বিবাহ ও জঙ্গিবাদ বন্ধ করতে হবে। আপনারা সর্তক থাকবেন, আপনাদের সন্তানরা কোথায় থাকে কি করে, খেয়াল রাখুন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক। আমরা যা যা ওয়াদা দিয়েছিলাম, প্রত্যেকটা ওয়াদা রক্ষা করেছি। পাশাপাশি তার চেয়ে বেশি কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ গড়ে তুলেছি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না। যাদের জমি নাই, ভিটামাটি নাই, তাদেরকে আমরা ঘর করে দেব আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে। কুড়েঘরে কেউ বাস করবে না। নিদেনপক্ষে একটা টিনের ঘর আমরা দেব। তিনি বলেন, প্রতি ঘরে আমরা আলো জ্বালাব। যেখানে বিদ্যুত্ লাইন নাই, সেখানে সোলার প্যানেল দিয়ে বিদ্যুত্ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমরা প্রত্যেকটা জেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি।

এর আগে বেলা ৩টার পর জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। জনসভা প্রাঙ্গণ থেকে তিনি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নতুন ভবনসহ ৪৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ২৫টি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ২৩টি উদ্বোধন।

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য গোলাম নকশীবন্দী, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, ড. দীপু মনি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামিম, আহমদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ, চাঁদপুর-৪ আসনে সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভুঁইয়া, চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।

প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব স্কাউটিং চালু করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর সরকার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব স্কাউটিং চালুর উদ্যোগ নেবে। গতকাল রবিবার সকালে বাংলাদেশ স্কাউটস’র ৬ষ্ঠ জাতীয় কমডেকা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। চাঁদপুর জেলার হাইমচরের চরভাঙ্গায় স্কাউটস এবং রোভার স্কাউটসদের ‘কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ক্যাম্প-কমডেকা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার প্রত্যেক স্কুলে কাব স্কাউটিং চালুর জন্য শিগগিরই একনেকে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিতে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুটি করে কাব স্কাউট, স্কাউট ও রোভার স্কাউট ইউনিট চালু করতে এবং সহশিক্ষা এবং মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে গার্ল ইন স্কাউট ইউনিট খুলতে আমি নির্দেশ দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য ৯৫ একর জমি বরাদ্দ এবং প্রত্যেক জেলায় স্কাউট ভবন নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণে তাঁর সরকারের জমি বরাদ্দের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সরকারের অধীনে স্কাউট শতাব্দী ভবন নির্মাণ ও স্কাউটিং সম্প্রসারণের জন্য ১২২ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ স্কাউটস’র সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।