খোশ মেজাজে আওয়ামী লীগ, বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী

আওয়ামীলীগ
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

খোশ মেজাজে আওয়ামী লীগ, বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী

শিবচর উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন মাদারীপুর-১। নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য একক প্রার্থী হিসেবে নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন খোশ মেজাজে রয়েছেন। তবে বিএনপিতে গ্রুপিং ও দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। এই আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী বেশির ভাগই নতুন মুখ। বিএনপি’র একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তবে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করায় মনোনয়নের দৌড়ে তরুণ প্রার্থীরাই এগিয়ে আছেন।

এছাড়াও জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর একজন করে প্রার্থী নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে
উপস্থিত থেকে জনসাধারণের মন জয় করার চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পেতে হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। পৌরসভা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের পরিসংখ্যানে এটি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা হিসেবেই পরিচিত। এ আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫২৩ জন। যেখানে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৫২ ভোট ও মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭১ ভোট।
এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য। নূর-ই-আলম চৌধুরীর আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলা যায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী দাদা ভাইয়ের বড় ছেলে। তিনি এক সময় জাতীয় সংসদের কনিষ্ঠতম এমপি ছিলেন, এ পর্যন্ত ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের মানুষ। ছোট থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির আর্দশ নিয়ে বড় হয়েছি। শিবচরের তৃণমূল মানুষের নেতা হতে চেয়েছি। সেই আশা কিছুটা পূরণ হয়েছে। আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি সক্রিয় করেছি। তারা যদি চায় আগামী নির্বাচনে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিতে, আমি তাদের রায়কে মেনে নেবো। আমি আশাবাদী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে তার নৌকা প্রতীক দিয়ে শিবচরের অসম্পূর্ণ কাজ করতে সুযোগ দেবেন।’
তবে বিএনপিতে মাঠে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন- প্রবীণ বিএনপি নেতা খলিলুর রহমান চৌধুরী ঠাণ্ডু, শিবচর উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান, জেলা বিএনপি’র সদস্য সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল হান্নান মিয়া, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লা।

বিগত দু’টি সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন শিবচর উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান। এছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সহায়তা করায় তৃণমূলেও বেশ জনপ্রিয় তিনি। চলমান কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও তার নেতৃত্বে পালিত হচ্ছে। এছাড়া খলিলুর রহমান চৌধুরী ঠাণ্ডু ও জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লা আগামী নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন।

ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে দলের পাশে থেকে অন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। ‘আমি জেলা বিএনপি’র প্রায় সকল পর্যায়ের নেতার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে শিবচরের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে শিবচরের চরাঞ্চলসহ গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা করবো।’ তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে শিবচরে নেতৃত্ব দিচ্ছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে আশা রাখি এই আসনে আমাদের বড় সাফল্য দেখাতে পারবো।

খলিলুর রহামান ঠাণ্ডু চৌধুরী বলেন, আমাকে মনোনয়ন দিলে শেষ বয়সে আরেকবার নির্বাচন করবো। আমার দলের পিছনে যে অবদান রয়েছে, আশা রাখি দল তা বিবেচনায় রাখবে।
জামাল কামাল নুরউদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আমি বিগত দিনে বিএনপি’র সঙ্গে জড়িত ছিলাম, এখনো আছি, আগামীতেও থাকবো। দুঃসময়ের কাণ্ডারি হিসেবে শিবচরের মানুষে আমাকে চিনে। আমি বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেলে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শিবচরের ভাগ্য উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত রাখবো। সেই সঙ্গে বিএনপি’র চেয়ারপারসন দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করবো।’

সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপি যদি একাদশ নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে আমি যে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নীরবে কাজ করে আসছি। বিগত দিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করে মনোনয়ন দিলে এ আসন থেকে আমিই মনোনয়ন পাবো বলে শতভাগ আশাবাদী।’
আবদুল হান্নান মিয়া বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্র রাজনীতি থেকে দলের দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে অন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। এজন্যই এলাকার মানুষের সেবা করার জন্যে এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছি। দলীয় প্রধান আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে আশাবাদী।’

অপরদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নেতা জহিরুল ইসলাম মিন্টুও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীদের সঙ্গে উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। জহিরুল ইসলাম মিন্টু মাদারীপুর জেলার জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী হিসেবে হাফেজ আবু জাফরকে ঘোষণা দিয়েছেন মাদারীপুর জেলা কমিটি। তিনি শিবচর উপজেলা কমিটির সভাপতি।

জহিরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘আমাকে দলীয় হাইকমাণ্ড নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচনের প্রস্তুত নিতে, আমি সেই নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে অবশ্যই নির্বাচন করবো। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে কিছু করবো না। কারণ আমাদের জোটগত একটি বিষয় রয়েছে। সেখানের সিদ্ধান্ত বাহিরে যাওয়ারও সুযোগ নেই।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মনোনয়ন প্রত্যাশী হাফেজ আবু জাফর বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় আমির সৈয়দ রেজাউল করীমের নির্দেশ মোতাবেক আমি মাদারীপুর-১ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। হুজুরের নির্দেশ অনুসারে আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা রাখি এই আসনে আমাদের বড় সাফল্য দেখাতে পারবো।’