নির্বাচন ছাড়া কিছু ভাবছে না আ’লীগ!

আওয়ামীলীগ
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

নির্বাচন ছাড়া কিছু ভাবছে না আ’লীগ!

অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া আর কিছু ভাবছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে দলটি সার্বিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যা যা করা দরকার আওয়ামী লীগ এখন সেসব করছে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন।


দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও সাংগঠনিক সফর করছেন। নির্বাচনী প্রচার, দলের সাংগঠনিক অবস্থা যাচাই, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং মনোনয়ন ইচ্ছুক প্রার্থীদের অবস্থান পর্যবেক্ষণে তারা কাজ করছেন। এজেন্ট প্রশিক্ষণ শুরুর বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতির দায়ে সাজা হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেয়ার কথা বলা হলেও নির্বাচনী প্রচারে জনগণের সামনে তা তুলে ধরে ফায়দা হাসিলের পরিকল্পনা করছে দলটি। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে বরিশালেও তিনি নির্বাচনী জনসভা করেছেন। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহীতে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি এ ধরনের সফর করবেন। বিভাগীয় শহরগুলো সফর শেষ করে তিনি জেলা শহর সফরে যাবেন। সেসব জেলায় তিনি নিকট অতীতে যাননি সেসব জেলা সফর করবেন। যতবেশি সম্ভব জনগণের কাছে পৌঁছতে চান তিনি।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দুর্নীতির জন্য খালেদা জিয়ার দণ্ড বা অন্য কোনো অরাজনৈতিক ইস্যুতে তারা মাথা ঘামাতে রাজি নন। তাদের সামনে এখন একমাত্র লক্ষ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী নির্বাচনের সব প্রস্তুতি দ্রুত গুছিয়ে আনতে চান তারা।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, তারা এখন নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন। প্রস্তুতি নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে অধিক গুরুত্ব দেয়ার কোনো অর্থ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ জানে খালেদা জিয়া কতটা দুর্নীতিবাজ। ক্ষমতায় থাকতে তিনি (খালেদা জিয়া) কালো টাকা সাদা করেছেন; তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা কালো টাকা সাদা করেছেন। তার আমলে বাংলাদেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। তাই খালেদা জিয়ার রায়ে দেশের মানুষ সন্তুষ্ট। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা ফারুক খান আরও বলেন, আমরা নির্বাচন নিয়ে যে সফর শুরু করেছি সেখানে অন্য বিষয়ের সঙ্গে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও, অবরোধ বিষয়গুলোও তুলে ধরা হবে।

২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ১৫টি টিমের দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর চলছে। টিমগুলোর সফর সম্পর্কে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি টিমের সদস্যরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রতিটি আসনে সম্ভাব্য তিনজন করে প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত এবং তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সফরে অন্যসব ইস্যুর সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাজা পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রচার করে নিজেদের জনসমর্থন বৃদ্ধির কৌশল নিয়েছেন নেতারা।

সাংগঠনিক সফরে বেশ কিছু এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন শাসক দলের নেতারা। কী কারণে তৃণমূলে অন্তঃকোন্দল? নির্বাচন এলে কেন অনুগত কর্মীরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন? এমপিদের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দূরত্ব বৃদ্ধির কারণ কী? এসব সম্পর্কে তথ্য উদ্ঘাটন ও উত্তরণের পথ বের করার অগ্রাধিকার দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামী নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেয়া জরিপের কাজটিও করছে টিমগুলোর সদস্যরা। স্থানীয় নির্বাচনগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণে রাখছেন টিমের সদস্যরা।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন জেলা সফরে দলীয় এমপিদের জনপ্রিয়তা যাচাই করছে টিমগুলো। স্থানীয় এমপিদের সমালোচনা করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা নেতাদের তালিকাও করছেন সফরে অংশগ্রহণকারী নেতারা। দলের বাইরের নেতিবাচক প্রচারকারীদের তালিকাও ওঠে আসছে এ সফরে। এছাড়া প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই, জোটের প্রার্থীদের অবস্থানের খোঁজখবরও নেয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা দলের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমও খতিয়ে দেখছেন দলীয় নেতারা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, তাদের নির্বাচনভিত্তিক কর্মকাণ্ড চলছে। প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রচারও চলছে। পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হবে। এতে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, দেশের অর্জন, উন্নয়ন-অগ্রগতির পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডও তুলে ধরা হচ্ছে। জিয়া পরিবারের দুর্নীতির খতিয়ান জনগণকে জানানো হবে।

৩ ফেব্রুয়ারি ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করার জন্য তৃণমূলে চিঠি পাঠিয়েছে আওয়ামী লীগ। এজেন্ট প্রশিক্ষণের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে জেলা-উপজেলার নেতাদেরও ইতিমধ্যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সরকারের ৯ বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার এবং বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে উঠান বৈঠক, কর্মিসভা, জনসভা, পথসভার আয়োজন করা হবে। দলের সভাপতির সফরকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিধি সভাও করা হচ্ছে।

Sign up via our free email subscription service to receive notifications when new information is available.