‘ইলিশ এখন বড়লোকদের জন্য’

অর্থনীতি
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

‘ইলিশ এখন বড়লোকদের জন্য’


শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে রামপুরা বাজারে মাছ কিনতে আসেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. সদরুল হাসান। ইলিশের দোকানে গিয়ে ৫০০ গ্রাম ওজনের এক জোড়ার দাম জানতে চাই বিক্রেতা কামরুল বলেন, ‘এক দাম ১৮০০ টাকা’।
সদরুল হাসানের মুখ থেকে মৃদু স্বরে বেরিয়ে এলো এতো দাম। তখন বিক্রেতা কামরুল একটু কর্কশ কণ্ঠে বলে ওঠেন ‘স্যার এই দামে নিলে নেন, না নিলে অন্যদিকে দেখেন’।

এরপর বেসরকারি এই চাকরিজীবী পাশের আর একটি দোকানে গিয়ে ২৫০-৩০০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া ইলিশের দাম জানতে চাইলে ওই বিক্রেতা বলেন, ‘জোড়া ১২০০ টাকা পড়বে’।

এমন দাম শুনে ইলিশের ওই দোকানের সমনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন সদরুল। এ সময় এ প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন ইলিশ কতো চাচ্ছে ভাই? সদরুলের সহজ সরল উত্তর, ‘আর শুনতে চাইয়েন না ভাই। ইলিশ এখন আমাদের মতো মধ্যবিত্তের জন্য না। ইলিশ এখন ধনীদের মাছ। আমাদের দেখেই শান্তি’।

এরপর মাছ বিক্রেতা কামরুলের কাছে ইলিশের দাম জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জোড়া ১৮০০ টাকা। এর থেকে একটু বড় ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জোড়া ২৫০০ টাকা। আর ২০০-২৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জোড়া ৮০০ টাকা।’

বৈশাখের সময় তো ইলিশের দাম এর থেকে কম ছিল এমন কথা বললে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘বৈশাখে মজুদ করা মাছ বিক্রি হয়েছে। এখন বাজারে মজুদ করা ইলিশ নেই। আবার মাছে নেমে গেছে। ফল জালে খুব কম ইলিশ ধরা পড়ছে। সরবরাহ কম থাকার কারণে দাম এমন বেশি।’

এদিকে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ব্যবসায়ীরা ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ১২০০-১৩০০ টাকা পিস। অথচ ১ বৈশাখের আগে একই ওজনের ইলিশ তারা বিক্রি করেছেন প্রতি পিস ৭০০-৮০০ টাকা দরে।

আর বৈশাখে ৫০০ গ্রাম ওজনের যে ইলিশের দাম প্রতি পিস ৪০০-৫০০ টাকা ছিল আজ (শুক্রবার) তা বেড়ে হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকা। ২৫০-৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-১৬০০ টাকা, যা বৈশাখ উপলক্ষে বিক্রি হয় ৮০০ টাকা হালি।

বাজারটির মাছ ব্যবসায়ী শুকুর আলীর সঙ্গে বললে তিনি জানান, এখন ইলিশের দাম একটু বেশি। আবার বড় ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে সর্বোচ্চ ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ আছে। এই ইলিশের দাম ১৪০০ টাকা পিস।

বৈশাখে এই ইলিশ কতো দামে বিক্রি করেছেন? এমন প্রশ্ন করলে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘বৈশাখে ৮০০-৯০০ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে। তবে বৈশাখের সঙ্গে এখন মিলানো যাবে না। কারণ এখন মাছ খুব একটা ধরা পড়ছে না। কিন্তু বৈশাখের শুরুতে ইলিশ ভালই পাওয়া যাচ্ছিল আবার মজুদ করা ইলিশও ছিল। এখন বাজার মজুদ করা মাছ নেই।’

বাজারটির আর এক ইলিশ ব্যবসায়ী সুকুমার বলেন, ‘বাজারের যে কোনো মাছের থেকে ইলিশের স্বাদ বেশি। ফলে চাহিদাও বেশি থাকে। এখনও ইলিশের অনেক চাহিদা আছে, কিন্তু দাম বেশি হওয়ার কারণে বিক্রি কম। কয়েক মাস পরেই আবার ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে। তখন দামও কমে যাবে, বিক্রিও বাড়বে।’

এদিকে ইলিশের দামের প্রভাব গিয়ে পড়েছে অন্য মাছেও। বাজারে পাপদা, শিং, ট্যাংরা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকার উপরে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা কেজি। চিংড়ি মাছের কেজি ৫০০-৬০০ টাকা। তেলাপিয়া ১৫০-১৭০০ টাকা কেজি। চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি।