গ্রামীণফোনকে জরিমানা

অর্থনীতি
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

গ্রামীণফোনকে জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক: মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনকে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। দেশের সীমান্ত এলাকায় অনুমতি ছাড়া ১৭টি টাওয়ার তৈরি ও তা ব্যবহারের কারণে এ জরিমানা করা হয়।

এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিটিআরসির কমিশন সভায়। সভাটি ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় এসব টাওয়ার তৈরি করে গ্রামীণফোন। এগুলো স্থাপনের কোনো অনুমোদন বিটিআরসির কাছ থেকে নেয়নি অপারেটরটি। অনুমোদন ছাড়া এসব টাওয়ার ব্যবহার করে গ্রামীণফোন যে অর্থ আয় করেছে, সেটির গড় পরিমাণ ধরে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে এক মাস সময় দেবে বলে জানা গেছে।

একই অভিযোগে বাংলালিংককে গত বছরের আগস্টে ১৭ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল বিটিআরসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির অনুমোদন ছাড়া বাংলালিংক ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় ১০৯টি টাওয়ার তৈরি করেছিল।

এ ঘটনার আগে ২০১৩ সালে সীমান্ত এলাকায় অনুমোদন ছাড়া টাওয়ার তৈরির অভিযোগে বাংলালিংক ও এয়ারটেল অভিযুক্ত হয়। ওই সময় বাংলালিংক সীমান্ত এলাকায় ৪০০ টাওয়ার তৈরি করেছিল। আর বর্তমানে রবির সঙ্গে একীভূত হওয়া এয়ারটেল তৈরি করেছিল ১৯১টি টাওয়ার। বিটিআরসি তা ধরে ফেলে। প্রথমবারের মতো এ অপরাধ করায় অপারেটর দুটিকে জরিমানা না করে সতর্ক করে বিটিআরসি।

বিটিআরসি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় অনুমতি না নিয়ে মোট ৩৬৭টি বিটিএস (বেস ট্রানসিভার স্টেশন) তৈরি করে গ্রামীণফোন। এর মধ্যে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৩৫০টি বিটিএস তৈরি করা হয়। এসব টাওয়ারের জন্য গ্রামীণফোনকে জরিমানা গুনতে হয়নি। কারণ, তখন এ-সংক্রান্ত পরিষ্কার বিধিবিধান ছিল না।

একটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে সীমান্ত এলাকায় বিটিএস তৈরি করতে হলে বিটিআরসি ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থার ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু বিটিআরসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, যে ঠিকানা দিয়ে গ্রামীণফোন এসব বিটিএস তৈরি করেছে তার মধ্যে ৪০টির ঠিকানা পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু ঠিকানা পরিবর্তন করার বিষয়টি পরবর্তী সময় আর বিটিআরসিকে জানানো হয়নি।

বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সীমান্ত এলাকায় টাওয়ার থেকে অপারেটরদের আয় তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব এলাকায় টাওয়ার তৈরির বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। অনুমোদন ছাড়া তাই এসব এলাকায় টাওয়ার তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, জরিমানার বিষয়ে কোনো চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে বিটিআরসি থেকে এখনো আসেনি। তাই এখনই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

গ্রামীণফোন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে অপারেটরটির ১৩ হাজার মোবাইল টাওয়ার আছে। এর মধ্যে তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রি-জি) বিটিএস সংখ্যা ১১ হাজার ৮৪১টি।

জরিমানার টাকা দেয়নি বাংলালিংক

গত বছরের আগস্টে নির্ধারণ করা ১৭ কোটি টাকা জরিমানার অর্থ এখনো বিটিআরসিকে পরিশোধ করেনি বাংলালিংক। বিটিআরসি সচিব ও মুখপাত্র সরওয়ার আলম এ বিষয়ে বলেন, বিটিআরসির অনুমতি ছাড়া যেকোনো অপারেটরের সীমান্ত এলাকায় টাওয়ার তৈরির বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে আরোপ করা জরিমানা আদায়ে অভিযুক্ত অপারেটরকে তাগিদ দেওয়া হবে।

Sign up via our free email subscription service to receive notifications when new information is available.