বন্দরে পণ্য ওঠানামায় গতি

অর্থনীতি
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

বন্দরে পণ্য ওঠানামায় গতি


জাহাজে দ্রুত পণ্য ওঠানামায় ব্যবহৃত আধুনিক দুটি ‘কি গ্যান্ট্রি ক্রেন’ অচল হয়েছিল ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এসে দুই থেকে ছয় মাসের মধ্যে চালুর আশার কথা জানালেও সেটি সচল হয়নি। ফলে দ্রুত পণ্য ওঠানামার ধকল সামাল দিতে হিমশিম খায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে বিপুল মাসুল গুনতে হয় বন্দর ব্যবহারকারীদের।
সুখবর হচ্ছে, একটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন গত ১ মার্চ সচল করা হয়েছে। সেটি দিয়ে পণ্য ওঠানামা শুরু হয়েছে। আরেকটি সচল হতে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগবে। এর পরই দুটি ক্রেন দিয়ে বাকি একটি জেটি পুরোদমে সচল করা সম্ভব হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্রুত সচল করতে আমরা লেগে ছিলাম। ব্যাপক চেষ্টার পর জাপানি প্রকৌশলীদের সহায়তায় আমরা একটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন চালু করেছি। সেটি চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটিতে) পণ্য ওঠানামায় যুক্ত হয়েছে। আরেকটি ক্রেনের যন্ত্র আসছে এই মার্চ মাসেই। সেগুলো এসে যন্ত্রটি চালুর উপযোগী করতে এপ্রিল পর্যন্ত লাগতে পারে।’
তিনি বলেন, দুটি গ্যান্ট্রি ক্রেন পুরোদমে সচল হওয়ার পর ‘গিয়ারবিহীন জাহাজ’ বন্দরে আসার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি উঠে যাবে। তখন সিসিটির দুটি জেটিতে দুটি গিয়ারলেস জাহাজ ভিড়তে পারবে। রমজান ও বাজেট ঘোষণা আসার আগেই আমদানির চাপটা অনেকটাই সামাল দিতে পারব। বন্দর সূত্র জানায়, দুটি ক্রেন মেরামতে বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সেটি দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিদেশি জাহাজ মালিকের কাছ থেকে পরবর্তী সময় এই টাকা আদায় করা হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে সব জেটি ও টার্মিনালের মধ্যে ‘গিয়ারলেস জাহাজ’ ভেড়ার সুযোগ রয়েছে শুধু সিসিটির দুটি জেটিতে। এই দুটি জেটিতে চারটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে দুটি গিয়ারলেস জাহাজ ভিড়তে পারে। অন্য কোনো জেটিতে এই ধরনের জাহাজ ভেড়ার সুযোগ না থাকায় শুধু নির্দিষ্ট সংখ্যক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার অনুমতি রয়েছে। ২০১৭ সালের জুন মাসে জাহাজের ধাক্কায় সিসিটির দুটি গ্যান্ট্রি ক্রেন অচল হওয়ার পর থেকে সিসিটির একটি জেটি অচল হয়। বাকি একটি জেটি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জাহাজ সামাল দিতে হিমশিম খায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তখন একটি গিয়ারলেস জাহাজকে সিসিটি জেটিতে ভিড়তে আগের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়তি সময় লাগছিল। পরিস্থিতি উত্তরণে বন্দর কর্তৃপক্ষ এই ধরনের জাহাজ আসায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে সামাল দেয়। অবশ্য অচল একটি জেটিতে গিয়ারযুক্ত বা ক্রেনযুক্ত কনটেইনার জাহাজ ভিড়তে দেয়। একটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল হওয়ার পর পণ্য ওঠানামায় বাড়তি কী সুবিধা মিলছে জানতে চাইলে সিসিটি টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন একটি জেটিতে একটি গিয়ারলেস জাহাজ ভিড়ছে। তবে কি গ্যান্ট্রি ক্রেন কাজ করছে একসঙ্গে তিনটি, এতে করে পণ্য ওঠানামার সময় কিছুটা কমেছে। বাড়তি ক্রেন যুক্ত করায় বন্দরের রাজস্ব বেড়েছে। আগামী এপ্রিলের শেষে বাকি গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল হলে পুরোদমে আরেকটি জেটিতে গিয়ারলেস জাহাজ ভেড়ানো যাবে। এতে কনটেইনার ওঠানামা অনেক বাড়বে।
গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল হওয়ায় খুশি বন্দর ব্যবহারকারীরা। জানতে চাইলে ক্রেনবিহীন জাহাজ পরিচালনাকারী পিআইএল বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরের অনুরোধেই আমরা গিয়ারলেস জাহাজ কমিয়ে এনেছিলাম। একটি গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল হওয়া সুখবর, আরেকটি গ্যান্ট্রি ক্রেন চালু না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে গিয়ারলেস জাহাজ আসার সুযোগ নেই। সেটি যত দ্রুত চালু করা যায় ততই দ্রুত সুফল।’
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি টার্মিনালের মধ্যে মাত্র একটি অর্থাৎ চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) পণ্য ওঠানামায় যুক্ত আছে চারটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন। বিগত ২০০৫ সালে এই যন্ত্র যোগ হয় বন্দরের বহরে। সিসিটির দুটি জেটির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার ১৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়, এ কারণে এ দুটি জেটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক চারটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন। কম সময়ে দ্রুততার সঙ্গে পণ্য ওঠানামা করতে এই গ্যান্ট্রি ক্রেন হচ্ছে বিশ্বে আধুনিক পদ্ধতি।