এক জীবনে অনেক পেয়েছি

বিনোদন
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

এক জীবনে অনেক পেয়েছি


ববিতা। বরেণ্য অভিনেত্রী। ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। পুরস্কারপ্রাপ্তি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে-
চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন। সমকালের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। এই প্রাপ্তির অনুভূতি কেমন?
আমার অভিনয় জীবনের সেরা অর্জন এটি। এই সম্মাননার মধ্য দিয়ে আমার অভিনয় জীবন পরিপূর্ণ হয়েছে। শ্রদ্ধেয় জহির রায়হানের অনুপ্রেরণায় চলচ্চিত্র এসেছিলাম। এরপর দেশের সব গুণী মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি। বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ তার 'অশনি সংকেত' ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাই। মায়ের মৃত্যুর পর আমাকে আগলে রেখেছেন বড় বোন সুচন্দা ও সবসময়ই ছায়ার মতো পাশে থেকেছে ছোট বোন চম্পা। এ ছাড়া দেশের সিনেমাপ্রেমী প্রতিটি দর্শকের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের ভালোবাসা, উৎসাহে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। হয়েছি ববিতা।
আপনি সবসয়মই বাছবিচার করে কাজ করেছেন। এটা কি সচেতনভাবেই করতেন?
হ্যাঁ। অভিনয়ের শুরু থেকে গল্প ও চরিত্রকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমি পছন্দ করতাম সেসব গল্প- যেগুলো দেশ ও সমাজের নানা কথা বলে। আর যাচাই-বাছাই করেই অভিনয় করেছি বলেই প্রতিটি ছবিতেই দর্শকদের মনজয় করতে পেরেছি। এমনই হয়েছে বিনা পারিশ্রমিকেও কাজ করেছি। এটা এখনকার অভিনয়শিল্পীরা ভাবতেই পারে না।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশের আপনাকে সবসময়ই পাওয়া যায়। তাদের জন্য নতুন কী কাজ করছেন?
বাংলাদেশ, নেপাল ও থাইল্যান্ড- এ তিন দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছি। বিশ্ব শিশু অধিকার-বিষয়ক সংস্থা ডিসিআইর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের নিয়ে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেও আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ডিসট্রেসড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমি শিশুদের লেখাপড়া, স্বাস্থ্য সচেতনতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করছি।
অনেক বছর হলো ছবি করছেন না। অখণ্ড সময় পার করছেন। অবসর কীভাবে কাটে?
আমি প্রকৃতিপ্রেমী। বাসায় অসংখ্য গাছ লাগিয়েছি। মাছের অ্যাকুয়ারিয়াম আছে। ময়না, টিয়া, লাভবার্ডসহ নানান জাতির পাখি আছে। পোষা একটি কুকুর রয়েছে। এদের নিয়ে আমার সময়গুলো কেটে যায় মহাআনন্দে। জীবনের বেশিরভাগ সময় অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি। যে কারণে প্রকৃতি, পশুপাখির সংস্পর্শে আসা হয়নি। আমার একমাত্র ছেলে অনিক। তাকে ঘিরেই আমার পৃথিবী। মাঝে মাঝে কানাডায় গিয়ে ওকে সঙ্গ দেই। আর দেশে এলে অনিককে মজার মজার রান্না করে খাওয়াই। এই তো আমার দিনরাত্রি ...।
আপনার কাছে জীবনের সংজ্ঞা কেমন?
প্রতিটি মানুষের কাছে জীবন মানে একেক রকমের অনুভূতি। আমার কাছে জীবন মানে উপভোগের। আর সে কারণে আমি চেয়েছি জীবনকে সবসময় উপভোগ করতে। আর এ কারণেই ছুটে চলেছি দেশ-বিদেশে।
জীবনে প্রাপ্তি অনেক। অপ্রাপ্তি কিংবা অতৃপ্তির কিছু আছে?
দর্শকদের ভালোবাসাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্মাননাও অনেক পেয়েছি। এক জীবনে আমি অনেক পেয়েছি। তবে একজন শিল্পীর জীবনে শেষ বলে কিছু নেই। সারাক্ষণই তাকে ভালো কাজের ক্ষুধা তাড়িয়ে বেড়ায়। ছবিতে আপাতত কাজ করছি না বলে ছবি ছেড়ে দিয়েছি, তা নয়। এখনও ভালো চরিত্র, ভালো গল্পের সন্ধান করছি। আর ভালো ভালো ছবিতে কাজের অতৃপ্তি তো সবসময়ই থাকবে। কারণ প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি তো জীবনেরই একটা অংশ।