‘শীর্ষ ৩০ বাঙালির তালিকায় নিজেকে দেখে বিস্মিত-আনন্দিত’

বিনোদন
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

‘শীর্ষ ৩০ বাঙালির তালিকায় নিজেকে দেখে বিস্মিত-আনন্দিত’

রুনা লায়লা। পরিচিতির জন্য নামটাই যথেষ্ট। ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এবার স্বামী অভিনেতা ও পরিচালক আলমগীরের ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রে নিজেকে সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। গানটির কথা লিখেছেন বরেণ্য গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন আঁখি আলমগীর। সম্প্রতি নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন তিনি।

রুনা লায়লা বলেন, হঠাৎ একদিন আঁখির ফোন। আন্টি আমার জন্য একটি গানের সুর করেন। উত্তরে আমি বললাম, জীবনে আমি কখনোই সুর করিনি। তবে চেষ্টা করতে পারি। এরপর শুরু যুদ্ধ। একটা ভালো গান তৈরির যুদ্ধ। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের গীতিকথায় সুর বসিয়ে রেকর্ড করে ফেলি। পরে তা আলম খানকে শোনাই। কিন্তু প্রথমে তিন-চার দিন কোন মন্তব্য না করলেও পরে বললেন, ভালো হয়েছে। কিন্তু এই গান তোমাকে গাইতে হবে। তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে দিয়ে হবে না। তাকে বললাম, আমি নই। গানটি আঁখি গাইবে। কথাশুনে তিনি বললেন, আঁখি এ ধরণের গান করেনা। হয়তো পারবেও না। আশ্বাস দিয়ে তাকে বললাম, আঁখি পারবে। এরপর গান ও পুরো বিষয়টি আঁখিকে ফোনে জানাতেই সে কেঁদে ফেললো। বললো, আন্টি আমার পক্ষে এই গান গাওয়া সম্ভব নয়। আমি বললাম তুমি পারবে। পারতে তোমাকে হবেই। নিয়মিত অনুশীলন ও আমার সব নিষেধাজ্ঞা (টানা একমাস স্টেজ শো না করা) মেনে সবশেষে ও গানটি গাইলো। নিজেকে উজাড় করেই গাইলো। ভালো হয়েছে গানটা। আঁখির জন্য শুভ কামনা।

ইংরেজি চলচ্চিত্র ‘দ্য বডিগার্ড’ এর ছায়া অবলম্বনে বরেণ্য চিত্রপরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ‘শিল্পী’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এতে চিত্রনায়ক আলমগীরের বিপরীতে রুনা লায়লাকে দেখা যায়। এরপর তাঁকে আর চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি। এখন আর অভিনয়ে ফিরবেন কিনা, এমন প্রশ্নে কিংবদন্তি এই শিল্পী বলেন, আর না। অভিনয় আর করা হবে না।

সম্প্রতি শীর্ষ ৩০ বাঙালির তালিকা প্রকাশ করেছে উইকিপিডিয়া। সেখানে রয়েছেন এই জীবন্ত কিংবদন্তি। সে অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘শুরুতে বিশ্বাসই হয়নি শীর্ষ ৩০ বাঙালির মধ্যে আমার নামও আছে। কারণ এই তালিকায় আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অমর্ত্য সেনসহ আরও অনেকে। এই সম্মানিত তালিকায় নিজের নাম দেখে আমি একই সঙ্গে বিস্মিত ও আনন্দিত। এই ভালো লাগা সত্যিই প্রকাশের মতো নয়। আমি কৃতজ্ঞ প্রতিটি ভক্ত, দর্শক ও শ্রোতার প্রতি। কারণ তাদের উৎসাহেই আমি গানে উদ্দীপনা পাই। সেই সঙ্গে আমার মায়ের কথাও বিশেষভাবে বলতে হয়। কারণ তার উৎসাহ, অনুপ্রেরণা এবং চেষ্টা না থাকলে আমার পক্ষে আজকের রুনা লায়লা হয়ে ওঠা সম্ভব হতো না। পাশাপাশি পরিবারের সমর্থন কারণেই আমার আজকের এই অবস্থান।

‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘ও আমার বন্ধুগো’, ‘জ্বালাইয়া প্রেমের বাতি’, ‘একাত্তরের মা জননী’, ‘লীলাবালি লীলাবালি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের এই শিল্পীর অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে জাতীয়-আন্তর্জাতিকসহ নানা পুরস্কার। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গান নিয়েই থাকতে চান তিনি।